
গাজীপুর মহানগর বিএনপির যৌথ প্রস্তুতি সভায় মহানগর বিএনপি ও ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা হামলা চালিয়েছেন। এ সময় চার থেকে পাঁচটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় অন্তত ছয় নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর শহরের রাজবাড়ি রোড এলাকার জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, নিত্যপণ্যের দাম কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে দেশের মহানগরগুলোর থানা পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এ কর্মসূচি সফল করতে গাজীপুর শহরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যৌথ সভার আয়োজন করা হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সভা চলার সময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি এবং মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে পদবঞ্চিত ২০-২৫ নেতা–কর্মী হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। এ সময় চার-পাঁচটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে এলাকায় বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। হামলার ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের ছয় নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে গাজীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা পালিয়ে যান। পুলিশ ধাওয়া করে ছাত্রদলের কর্মী বোরহানুল কবিরকে আটক করে।
বিএনপির যৌথ প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ও সুরুজ আহমেদ, গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক হাসান আজমল ভূঁইয়া, সাইফুল ইসলাম, গাজীপুর বাসন থানা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুল ইসলামসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
জেলা বিএনপির একাধিক নেতা–কর্মী জানান, সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর বিএনপির ও ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এসব কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন পদবঞ্চিত ব্যক্তিরা। বেশ কিছু দিন ধরেই তাঁরা ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। হামলার নেপথ্যে রয়েছেন সদর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর হান্নান মিয়া, বাসন থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি বশির আহমেদসহ ছাত্রদলের সাবেক নেতা–কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোজানুজ্জামান ওরফে শুক্কুর, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ তাঁদের কর্মী–সমর্থকেরা ওই সভায় অংশ নেন। সভায় তাঁদের অংশগ্রহণ মেনে নিতে পারেননি দলের পদবঞ্চিত ব্যক্তিরা। এ সময় বাইরে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।
একপর্যায়ে বাইরে থেকে কয়েকজন দলীয় নেতা–কর্মী সভাস্থলে হাজির হয়ে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বের করে দেওয়ার জন্য শওকত হোসেন সরকারকে অনুরোধ জানান। এতে সভায় অংশ নেওয়া দলীয় নেতা–কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন। কার্যালয়ের ভেতরই হামলা ও ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে বাইরে বের হয়ে দুই পক্ষ প্রকাশ্যে কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। চলতে থাকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল ইসলাম বলেন, বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই পক্ষের পদবঞ্চিত ব্যক্তিরা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁদের ধাওয়া করে। এ সময় ছাত্রদলের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মেট্রো সদর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সিটির কাউন্সিলর হান্নান মিয়া বলেন, ‘হামলার বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে যাঁরা বলেছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলেছেন। আমি জরুরি কাজে এলাকার বাইরে ছিলাম। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে মহানগর ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিবাদ চলে আসছে।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে একটি সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় ছাত্রদলের একটি পক্ষ হামলা চালায়। তবে তারা কেন, কী কারণে হামলা চালিয়েছে, সেটি জানা নেই। পরে সভা শেষ না করেই সব নেতা–কর্মী সভাস্থল থেকে চলে যান।